তৃণমূল কর্মী: রাজনীতির নীরব নায়ক

p>
শহীদ তৃণমূল কর্মী ওয়াশিম – যিনি রাজপথে আদর্শের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।


 

তৃণমূল কর্মীরাই একটি দলের প্রাণভোমরা


প্রতিটি দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা।

যারা দিনের পর দিন রাজপথে, আন্দোলনে, সমাজসেবায় এবং দলের প্রয়োজনে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যায়—তাদের নিয়েই গঠিত হয় একটি দলের ভিত্তি।


এই কর্মীরা চাইলেও বিশ্রাম নিতে পারে না। আদর্শ ও বিশ্বাস তাদের এগিয়ে যেতে বাধ্য করে।

তারা নিজেদের সময়, শ্রম, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের পাশে দাঁড়ায়—চুপচাপ, বিনা প্রাপ্তির আশায়।



অবহেলা, বিভাজন ও অদৃশ্য ক্যাচালের বাস্তবতা


দুঃখজনক হলেও সত্য, কমবেশি প্রায় সব রাজনৈতিক দলের ভেতরে তৃণমূল কর্মীদের অবমূল্যায়ন চোখে পড়ে।

তাদের কণ্ঠস্বর অনেক সময় শুনতে চায় না কেউ।

দলীয় উচ্চ পর্যায়ে যখন ঐক্যের চিত্র দেখা যায়, তখন তৃণমূল পর্যায়ে শুরু হয় বিভেদ, সন্দেহ, আর ‘ক্যাচাল’।


এই বিভাজন তৈরি হয় অদৃশ্য কিছু স্বার্থের কারণে।

তৃণমূল কর্মীরা চাইলেও অনেক সময় এই ‘ক্যাচালে’ জড়িয়ে পড়ে—কারণ তারা জানে না কার ইঙ্গিতে বিভেদ ছড়ানো হচ্ছে।

ফলে তৃণমূল তৃণমূলই থেকে যায়—উঠে আসতে পারে না।



বেঁচে থাকলেও ব্যবহৃত, মরলেও শান্তি নেই


সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো—তৃণমূল কর্মীরা জীবিত অবস্থায় খুব একটা মূল্যায়ন পায় না।

কিন্তু যখনই কোনো কর্মী আন্দোলনে বা প্রতিপক্ষের আঘাতে প্রাণ হারায়, তখন হঠাৎ সবাই তার পাশে এসে দাঁড়ায়।


তার ছবি পোস্ট হয়, সভা-সমাবেশে তার নামে স্লোগান ওঠে, তার কফিন ঘিরে ভিড় করে নেতা-নেত্রীরা।

মুহূর্তেই সে ‘স্মরণীয়’ হয়ে ওঠে।


কিন্তু প্রশ্ন হলো—জীবিত অবস্থায় সে কোথায় ছিল? ক’জন তাকে চিনতো? কে রেখেছিল তার খোঁজ?



তৃণমূল কর্মীর শান্তি কোথায়?


তৃণমূল কর্মীর একটাই শান্তি—সে জানে, সে আদর্শের সাথে আপোষ করেনি।

সে জানে, তার কাজ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।


সে জানে, সে জিতুক বা হারুক, জীবিত থাকুক বা না থাকুক—নীতি ও আদর্শের জন্য সে লড়াই করে গেছে।




সিনিয়রদের প্রতি বিনীত আহ্বান


সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, আপনাদের প্রতি আমাদের হৃদয় থেকে অনুরোধ—


আসুন, এই তৃণমূল যোদ্ধাদের সম্মান দিন তাদের জীবিত অবস্থায়।

তাদের কাঁধে হাত রাখুন, তাদের পাশে থাকুন, তাদের কথা শুনুন।


কারণ, আজকের এই তৃণমূল কর্মীরাই আগামীর নেতৃত্বের ভিত।

তাদের উৎসাহ দিলে শুধু দল নয়—দেশ ও সমাজও লাভবান হবে।


আসুন, আমরা বিভেদের দেয়াল না গড়ে, ঐক্যের সেতুবন্ধন গড়ে তুলি।

আসুন, রাজনীতি হোক আদর্শ, নীতি ও মানবিকতার এক গর্বিত পথ।


আপনার মতে, 

একটি দলের প্রকৃত শক্তি কোথায়?

কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

লেখক: স্বপ্নবাজ

একজন তৃণমূল কর্মীর অন্তর থেকে উঠে আসা বাস্তবতা




মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সংকট ও উত্তরণের রূপরেখা: এখনই সময় আত্মপুনর্গঠনের

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহিদ জিয়ার আদর্শ কি আবার পথ দেখাবে?