পোস্টগুলি

জুন, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সংকট ও উত্তরণের রূপরেখা: এখনই সময় আত্মপুনর্গঠনের

ছবি
  বর্তমান সময়টি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য এক গভীর আত্মজিজ্ঞাসার মুহূর্ত। দেশের বৃহৎ একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আজ আমাদের দলের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ—সাংগঠনিক দুর্বলতা, আদর্শিক বিভ্রান্তি, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বহিঃশক্তির সুপরিকল্পিত হস্তক্ষেপ। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে প্রয়োজন দলীয় ঐক্য, আত্মবিশ্লেষণ, এবং নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনের ভিত্তিকে নতুনভাবে গড়ে তোলা। ১. ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তি: একটি বৃহৎ তৃতীয় শক্তির সম্ভাব্য ভূমিকা বিভিন্ন সূত্র এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্নদের মতে, আমাদের দলকে দুর্বল করতে একটি সুসংগঠিত 'তৃতীয় শক্তি' সক্রিয় রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য—জাতীয়তাবাদী আদর্শকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া। এদের মধ্যে রয়েছে: দলের অভ্যন্তরের কিছু বিভ্রান্ত সদস্য, তথাকথিত ‘২৫-এর বিএনপি’ নামক বিভ্রান্তিকর গোষ্ঠী, জামায়াতের ভেতরের বিভক্ত অংশ (যাদের বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার আগে দলীয় অবস্থান জানা জরুরি), এবং আরও কিছু অস্পষ্ট সংগঠন ও প্রভাবশালী মুখ। এই পরিস্থিতিতে এখন সবচেয়ে বেশি দরকার—সতর্কতা, দলীয় সচেতনতা এবং তথ্যনির্ভর রাজনৈতিক জবাবদিহিতা। ২. আত্মসমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলা গঠনমূলক সম...

শেষ সম্বল আর একখণ্ড মানবতা

ছবি
 শেষ সম্বল আর একখণ্ড মানবতা (একটি সত্য ঘটনা থেকে…) মহিলাটির স্বামী নেই। জীবনের প্রয়োজনে অন্যের বাসায় কাজ করে দিন চলে। মাথার উপর ছাদ থাকলেও, মনের উপর সবসময়ই একটা বোঝা। সরকারি একটি দরকারি সেবা নিতে গিয়েছিলেন। কাজটা জরুরি—কিন্তু অফিসে গিয়ে শুনলেন, “এটা করতে হলে বেশকিছু টাকা লাগবে!” ভেঙে পড়েননি, মুখটা শক্ত করে দাঁড়িয়েছিলেন। তার চোখে ছিল না কোনো প্রশ্ন, শুধু কাতর এক অনুরোধ। ভাই আমি গরীব মানুষ , একদিন পর সে টাকাটি এনে দিলো। শেষ সম্বল—কানের দুল, নাকের ফুল… সোনার অলংকারগুলো বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করলেন। অহংকার নয়, ছিল তা বেঁচে থাকার উপায়। টাকাটি আমি নিলাম, অফিসারকে জানালাম। “স্যার, টাকাটা আমার কাছেই আছে। মহিলা খুব অসহায়।” তিনি বললেন, “ঠিক আছে, কাল কাজটা হয়ে যাবে।” -ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ৩:৩৬ মিনিট। সবাই যখন ঘুমিয়ে… আমার ফোনে একটা ম্যাসেজ— “মহিলাকে টাকাটা ফেরৎ দিয়ে দেন। উনার কাজটি আমি এমনিতেই করে দিবো। বন্ধক দিয়ে টাকা এনেছে। তার কাছ থেকে এক টাকাও নেয়া হবে না। আমি নিজে তার কাজটা করে দেবো।” আমি বাকরুদ্ধ….... এমন ভালো মানুষ এখনো আছেন? যিনি মধ্যরাতে একটা অসহায় নারীর কথা ভেবে ঘুম ভেঙে লেখেন— “টাকা ল...

বন্ধু ইরফান মাহিমের কলমে – এক অসমাপ্ত বিদায়ের দীর্ঘশ্বাস....

 মুনেম যে হাসপাতালে নিঃশব্দে বিদায় নেয়, আজ আমি সেই হাসপাতালের এক কোণে বসে আছি। একজন সহকর্মী ডাক্তারের বাবা দূর্ঘটনায় আহত হয়েছেন — অপারেশন থিয়েটারে, রক্ত দরকার ছিল। রক্ত দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছি… তবু মাথায় শুধু একটাই আওয়াজ বাজছে। মুনেমের কণ্ঠস্বর। “ভাই, তোমাকে সেদিন আসতে বললাম, তুমি তো আসতে দেরি করলা… আমাকে বিদায় জানালা না।” এখনও মনে হয়, মুনেম আমাকে খুঁজছিল, কিছু একটা বলতে চাইছিল। ফোন করেছিল, মেসেজ করেছিল… কিন্তু আমার আসতে কিছুক্ষণ দেরি হয়ে গেল। মুনেম ICU-তে চলে গেল — আর আমাদের কথা হল না। একই ঘটনা ঘটেছিল আমার মায়ের সাথেও। সড়ক দুর্ঘটনায় আমি বেঁচে গেলাম, মা চলে গেলেন… তাড়াহুড়ো না করলে, হয়তো মা'কে বাঁচাতে পারতাম। অথবা… একসাথে বিদায় নিতে পারতাম। তাদের কাউকে আমি বিদায় জানাতে পারিনি। আমি দেরি করে ফেলেছি। এতোটাই দেরি… যেটা আর কোনোদিনও ঘুচবে না। — ✍️ ইরফান মাহিম (আমার কাছের বন্ধু)

“ভালো মানুষ খুঁজে পাওয়া এখন কষ্ট কেন?”

 আমাদের সমাজে এখন ভালো মানুষ খুঁজে পাওয়াটাই যেন অলৌকিক ব্যাপার হয়ে গেছে। কিন্তু ভালো মানুষ আসলে কমে গেছে? নাকি আমাদের চোখে এখন এত ধোঁয়া, এত সন্দেহ — তাই দেখা যায় না? আমি ভাবি, হয়তো আমরা ভালো মানুষদের খুঁজছি ভুল জায়গায়। হয়তো ওরা চুপচাপ পাশে থাকে — শুধু নিজেদের প্রচার করে না বলে, আমরা চিনতে পারি না। একদিন যদি নিজের চেহারার ভেতরও সেই ভালো মানুষটাকে খুঁজে নিতে পারি, তাহলে হয়তো সমাজটা একটু বদলাবে। -- স্বপ্নবাজ

"হারিয়ে যাওয়া ইচ্ছেগুলোর খোঁজে — আবারও কলম ধরলাম"

 ২০১৬ সালের একদিন, হঠাৎ করে আমার ফেসবুক আইডিটা হারিয়ে গেলো।যেখানে আমি লিখতাম মন খুলে।মনে যা আসতো তাই লিখতাম। সেই আইডির সঙ্গে হারিয়ে গেলো অনেকটা সাহস, অনেকটা অভ্যেস — আর নিজের সঙ্গে কথা বলার এক নিঃশব্দ অভিজ্ঞান। তারপর বহুদিন কেটে গেছে। জীবন বদলেছে, দায়িত্ব বেড়েছে। কিন্তু ভেতরে কোথাও একটা জায়গা ছিল, যেখানে প্রতিদিন কেবল জমে থাকত কিছু না বলা কথা। আজ এতদিন পর, আমি আবারো লিখতে চাই। শুধু নিজের জন্য নয়। আমার সমাজের জন্য — যেখানে এখনও সত্য বলা মানেই একা হয়ে যাওয়া। আমার সন্তানের জন্য — যাতে সে একদিন পড়ে বুঝতে পারে, তার মা বা বাবা চুপ ছিল না। আর নিজের জন্য — যেন আমি আবার নিজের আয়নায় নিজেকে চিনে নিতে পারি। আমি জানি না এই লেখাগুলো কে পড়বে। তবে জানি, আমার ভেতরের "স্বপ্নবাজ" মানুষটা — সে এখনও বেঁচে আছে। তাই স্বপ্নবাজের ডায়েরি আবারও খুলছি। যা মনে আসে, তাই লিখবো। যার যা ইচ্ছা, সে পড়ে যাক। আমি আবার লিখা ধরেছি — চুপ করে থাকা আর সম্ভব নয়।লিখবো যখন মন যা চায়, মনে যা আসে। — স্বপ্নবাজ