পোস্টগুলি

তৃণমূল থেকে হাইব্রিড, আস্থাহীন রাজনীতির ইতিহাস ও মুক্তির পথ

ছবি
 শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে যে গণআকাঙ্ক্ষার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন, সেই ভিত্তিকে ধরে রাখতেই আজ বিএনপির প্রতিটি কমিটিতে তৃণমূল কর্মীদের জায়গা নিশ্চিত করা জরুরি। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতির প্রতি অগাধ আস্থা রেখেছে। ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণআন্দোলন,২৪ এর গনঅভ্যুত্থান প্রতিবারই জনগণ রাজনীতিকে মুক্তি ও পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে দেখেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা গেছে, যে দলই দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেছে, সেই দলই ধীরে ধীরে জনগণের আস্থা হারিয়েছে।  আমার প্রশ্ন হলো বার বার জনগন আস্থা হারায় কেন? ★রাজনীতি পথ হারায় কোথায়? গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দলের শক্তি আসলে তৃণমূল কর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্ভর করে। দুঃসময়ে তারাই দলের পতাকা ধরে রাখে, নির্যাতন সহ্য করে, মিছিল-সমাবেশে থাকে। কিন্তু দল ক্ষমতায় এলে এই তৃণমূল কর্মীরা অনেক সময় অবহেলিত হয়। তাদের জায়গা দখল করে নেয় সুবিধাবাদী, হাইব্রিড, ব্যবসায়ী বা অন্য দল থেকে আসা লোকজন। ★তখন থেকে দলের ভেতরে মূল্যায়নের মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায় কে কত মানুষ মিছিলে আনতে পারে কে কত টাকা খরচ করতে পারে কে নেতাকে খুশি করতে পারে এখ...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহিদ জিয়ার আদর্শ কি আবার পথ দেখাবে?

ছবি
  গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচনে নৈতিকতা, যোগ্যতা ও জাতীয়তাবাদের প্রাসঙ্গিকতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে—যখন নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়, তখন জনগণ জেগে ওঠে। কখনো রাস্তায়, কখনো ভোটে, কখনো প্রতিবাদে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—পরিবর্তনের পর কি সত্যিই বদলায় নেতৃত্বের মান? নাকি কেবল মানুষ বদলায়, পদ্ধতি থেকে যায় আগের মতো?   একটি আদর্শের উন্মেষ: শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৫-এর ভয়াবহ রাজনৈতিক সঙ্কটে যখন জাতি বিভ্রান্ত, তখন এক সাহসী নেতৃত্বের আবির্ভাব ঘটে—শহিদ জিয়াউর রহমান। তিনি কেবল একজন সামরিক অফিসার ছিলেন না, ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি জাতীয়তাবাদী চিন্তার মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক ধারা গড়ে তোলেন।  “ রাজনীতি মানেই জনগণের কল্যাণ ”—এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে তিনি গড়ে তোলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নেতৃত্বে আনেন যোগ্যতা, শৃঙ্খলা ও আদর্শ। তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণে উৎসাহ দেন, সবার কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেন। তিনি দেখিয়ে গেছেন—একটি আদর্শ, একটি দর্শন কিভাবে জাতিকে বদলে দিতে পারে।   আজ আমাদের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন তার উল্টো প্রতিচ্ছবি। ?...

তৃণমূল কর্মী: রাজনীতির নীরব নায়ক

ছবি
p> শহীদ তৃণমূল কর্মী ওয়াশিম – যিনি রাজপথে আদর্শের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।   তৃণমূল কর্মীরাই একটি দলের প্রাণভোমরা প্রতিটি দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা। যারা দিনের পর দিন রাজপথে, আন্দোলনে, সমাজসেবায় এবং দলের প্রয়োজনে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যায়—তাদের নিয়েই গঠিত হয় একটি দলের ভিত্তি। এই কর্মীরা চাইলেও বিশ্রাম নিতে পারে না। আদর্শ ও বিশ্বাস তাদের এগিয়ে যেতে বাধ্য করে। তারা নিজেদের সময়, শ্রম, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের পাশে দাঁড়ায়—চুপচাপ, বিনা প্রাপ্তির আশায়। অবহেলা, বিভাজন ও অদৃশ্য ক্যাচালের বাস্তবতা দুঃখজনক হলেও সত্য, কমবেশি প্রায় সব রাজনৈতিক দলের ভেতরে তৃণমূল কর্মীদের অবমূল্যায়ন চোখে পড়ে। তাদের কণ্ঠস্বর অনেক সময় শুনতে চায় না কেউ। দলীয় উচ্চ পর্যায়ে যখন ঐক্যের চিত্র দেখা যায়, তখন তৃণমূল পর্যায়ে শুরু হয় বিভেদ, সন্দেহ, আর ‘ক্যাচাল’। এই বিভাজন তৈরি হয় অদৃশ্য কিছু স্বার্থের কারণে। তৃণমূল কর্মীরা চাইলেও অনেক সময় এই ‘ক্যাচালে’ জড়িয়ে পড়ে—কারণ তারা জানে না কার ইঙ্গিতে বিভেদ ছড়ানো হচ্ছে। ফলে তৃণমূল তৃণমূলই থেকে যায়—উঠে আসতে পারে না। বেঁচে থাকলেও ব্যবহৃত, মরলেও শান...

জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সংকট ও উত্তরণের রূপরেখা: এখনই সময় আত্মপুনর্গঠনের

ছবি
  বর্তমান সময়টি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য এক গভীর আত্মজিজ্ঞাসার মুহূর্ত। দেশের বৃহৎ একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আজ আমাদের দলের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ—সাংগঠনিক দুর্বলতা, আদর্শিক বিভ্রান্তি, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বহিঃশক্তির সুপরিকল্পিত হস্তক্ষেপ। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে প্রয়োজন দলীয় ঐক্য, আত্মবিশ্লেষণ, এবং নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনের ভিত্তিকে নতুনভাবে গড়ে তোলা। ১. ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তি: একটি বৃহৎ তৃতীয় শক্তির সম্ভাব্য ভূমিকা বিভিন্ন সূত্র এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্নদের মতে, আমাদের দলকে দুর্বল করতে একটি সুসংগঠিত 'তৃতীয় শক্তি' সক্রিয় রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য—জাতীয়তাবাদী আদর্শকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া। এদের মধ্যে রয়েছে: দলের অভ্যন্তরের কিছু বিভ্রান্ত সদস্য, তথাকথিত ‘২৫-এর বিএনপি’ নামক বিভ্রান্তিকর গোষ্ঠী, জামায়াতের ভেতরের বিভক্ত অংশ (যাদের বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার আগে দলীয় অবস্থান জানা জরুরি), এবং আরও কিছু অস্পষ্ট সংগঠন ও প্রভাবশালী মুখ। এই পরিস্থিতিতে এখন সবচেয়ে বেশি দরকার—সতর্কতা, দলীয় সচেতনতা এবং তথ্যনির্ভর রাজনৈতিক জবাবদিহিতা। ২. আত্মসমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলা গঠনমূলক সম...

শেষ সম্বল আর একখণ্ড মানবতা

ছবি
 শেষ সম্বল আর একখণ্ড মানবতা (একটি সত্য ঘটনা থেকে…) মহিলাটির স্বামী নেই। জীবনের প্রয়োজনে অন্যের বাসায় কাজ করে দিন চলে। মাথার উপর ছাদ থাকলেও, মনের উপর সবসময়ই একটা বোঝা। সরকারি একটি দরকারি সেবা নিতে গিয়েছিলেন। কাজটা জরুরি—কিন্তু অফিসে গিয়ে শুনলেন, “এটা করতে হলে বেশকিছু টাকা লাগবে!” ভেঙে পড়েননি, মুখটা শক্ত করে দাঁড়িয়েছিলেন। তার চোখে ছিল না কোনো প্রশ্ন, শুধু কাতর এক অনুরোধ। ভাই আমি গরীব মানুষ , একদিন পর সে টাকাটি এনে দিলো। শেষ সম্বল—কানের দুল, নাকের ফুল… সোনার অলংকারগুলো বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করলেন। অহংকার নয়, ছিল তা বেঁচে থাকার উপায়। টাকাটি আমি নিলাম, অফিসারকে জানালাম। “স্যার, টাকাটা আমার কাছেই আছে। মহিলা খুব অসহায়।” তিনি বললেন, “ঠিক আছে, কাল কাজটা হয়ে যাবে।” -ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ৩:৩৬ মিনিট। সবাই যখন ঘুমিয়ে… আমার ফোনে একটা ম্যাসেজ— “মহিলাকে টাকাটা ফেরৎ দিয়ে দেন। উনার কাজটি আমি এমনিতেই করে দিবো। বন্ধক দিয়ে টাকা এনেছে। তার কাছ থেকে এক টাকাও নেয়া হবে না। আমি নিজে তার কাজটা করে দেবো।” আমি বাকরুদ্ধ….... এমন ভালো মানুষ এখনো আছেন? যিনি মধ্যরাতে একটা অসহায় নারীর কথা ভেবে ঘুম ভেঙে লেখেন— “টাকা ল...

বন্ধু ইরফান মাহিমের কলমে – এক অসমাপ্ত বিদায়ের দীর্ঘশ্বাস....

 মুনেম যে হাসপাতালে নিঃশব্দে বিদায় নেয়, আজ আমি সেই হাসপাতালের এক কোণে বসে আছি। একজন সহকর্মী ডাক্তারের বাবা দূর্ঘটনায় আহত হয়েছেন — অপারেশন থিয়েটারে, রক্ত দরকার ছিল। রক্ত দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছি… তবু মাথায় শুধু একটাই আওয়াজ বাজছে। মুনেমের কণ্ঠস্বর। “ভাই, তোমাকে সেদিন আসতে বললাম, তুমি তো আসতে দেরি করলা… আমাকে বিদায় জানালা না।” এখনও মনে হয়, মুনেম আমাকে খুঁজছিল, কিছু একটা বলতে চাইছিল। ফোন করেছিল, মেসেজ করেছিল… কিন্তু আমার আসতে কিছুক্ষণ দেরি হয়ে গেল। মুনেম ICU-তে চলে গেল — আর আমাদের কথা হল না। একই ঘটনা ঘটেছিল আমার মায়ের সাথেও। সড়ক দুর্ঘটনায় আমি বেঁচে গেলাম, মা চলে গেলেন… তাড়াহুড়ো না করলে, হয়তো মা'কে বাঁচাতে পারতাম। অথবা… একসাথে বিদায় নিতে পারতাম। তাদের কাউকে আমি বিদায় জানাতে পারিনি। আমি দেরি করে ফেলেছি। এতোটাই দেরি… যেটা আর কোনোদিনও ঘুচবে না। — ✍️ ইরফান মাহিম (আমার কাছের বন্ধু)

“ভালো মানুষ খুঁজে পাওয়া এখন কষ্ট কেন?”

 আমাদের সমাজে এখন ভালো মানুষ খুঁজে পাওয়াটাই যেন অলৌকিক ব্যাপার হয়ে গেছে। কিন্তু ভালো মানুষ আসলে কমে গেছে? নাকি আমাদের চোখে এখন এত ধোঁয়া, এত সন্দেহ — তাই দেখা যায় না? আমি ভাবি, হয়তো আমরা ভালো মানুষদের খুঁজছি ভুল জায়গায়। হয়তো ওরা চুপচাপ পাশে থাকে — শুধু নিজেদের প্রচার করে না বলে, আমরা চিনতে পারি না। একদিন যদি নিজের চেহারার ভেতরও সেই ভালো মানুষটাকে খুঁজে নিতে পারি, তাহলে হয়তো সমাজটা একটু বদলাবে। -- স্বপ্নবাজ